সমাজ বিকাশে প্রযুক্তি ও তার ব্যবহার

রণেশ রায়

মানব সমাজ বিকাশে প্রযুক্তি

মানব সমাজের বিকাশ ও অগ্রগমনে প্রযুক্তি বিশেষ ভূমিকা পালন করে আসছে তার আবির্ভাব লগ্ন থেকেই। অথচ সভ্যতার ধারক বাহক তথা কর্পোরেট দুনিয়া ও তাদের পদলেহনকারীরা একে আজকের যুগের এক বিস্ময় বলে প্রচার করে প্রযুক্তির উন্নতিকে  তাদের একান্ত অবদান বলে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়।

সম্পত্তির মালিকানা এবং তার সাহায্যে প্রযুক্তির উপর দখলদারি কায়েম করে তাকে কার স্বার্থে কিভাবে ব্যবহার করা হবে তা স্থির করার অধিকার অর্জন করেছে মালিক গোষ্ঠী। এর জন্য তারা রাষ্ট্রের সমর্থন পায় কারণ রাষ্ট্র তাদের স্বার্থে পরিচালিত হয়।

অথচ প্রযুক্তি একটা বহমান এমন উপাদান যা মানুষের অগ্রগমনে সহায়ক। পুঁজিবাদের আবির্ভাবের বহুকাল আগে থেকেই কার্যত মানব সমাজের আবির্ভাব লগ্ন থেকেই মানুষের শ্রম ও মননের সমন্বয়ে প্রযুক্তির উন্নতি ঘটে চলেছে অবিরাম ধারাবাহিক ভাবে।

আজকের সুউন্নত প্রযুক্তি অতীতের প্রযুক্তির উন্নতির ধারাবাহিকতা। এই ধারাবাহিকতা থেকে প্রযুক্তিকে বিচ্ছিন্ন করে একে এর  প্রকৃত স্রষ্টা তথা মেহনতি মানুষ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়েছে।

নিজেদের ব্যবসার স্বার্থে মানবতার স্বার্থকে ক্ষুণ্ন করে প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে চলেছে মালিক শ্রেণী। ব্যাপক সাধারণ মানুষের স্বার্থে এর ব্যবহার খুবই সীমিত এবং সেটা পরোক্ষ। শুধু সেখানেই মানুষের স্বার্থ কিছুটা ছিটে ফোটা রক্ষিত হয় যেখানে তাদের স্বার্থ অর্থাৎ মুনাফার স্বার্থ রক্ষিত হয়।

মানুষের স্বার্থটা পরোক্ষ এবং গৌণ। অথচ যদি এদের স্বার্থ থেকে প্রযুক্তিকে বিচ্ছিন্ন করে তাকে মানব উন্নতির কাজে ব্যবহার করা যেত তবে মানুষের যে কল্যাণ হত তা মানবতাবোধকে রক্ষা করে সভ্যতাকে এগিয়ে নিয়ে যেত। আজের এই ভয়াভয় সভ্যতার চেহারাটা দেখতে হত না।

আমরা যদি ইতিহাসের দিকে তাকাই তবে দেখব উৎপাদন প্রক্রিয়ায় উপকরণের ব্যবহারে বৈচিত্র এনে উৎপাদনে বিকল্প উপকরণ ব্যবহারের মাধ্যমে বা নতুন দ্রব্য উৎপাদন করার কৌশল আবিষ্কার করার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ প্রযুক্তির আবিষ্কার করে চলেছে যা তার জীবন ধারণের মানকে উন্নত করে চলেছে, তাকে মসৃন করে চলেছে। মানুষের মেহনতের সঙ্গে মনন যুক্ত থাকে উৎপাদন প্রক্রিয়ায়।

যুক্তির সাহায্যে উৎপাদন প্রক্রিয়ায় উপকরণের সঙ্গে উৎপাদনের কার্যকারণ সম্পর্কটা আত্মস্থ করে তার সম্পর্কে অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞানকে উন্নতস্তরে কাজে লাগনো হয় যা নতুন প্রযুক্তির আবিষ্কারের পথ প্রশস্ত করে। নতুন প্রযুক্তি মানুষকে নতুন হাতিয়ার পেতে সাহায্য করে।

প্রাথমিক পর্যায়ে উৎপাদনের জায়গাতেই অর্থাৎ মাঠে ঘাটে এই প্রযুক্তির আবিষ্কার হত। আলাদা করে গবেষণাগার ছিল না। কিন্তু প্রযুক্তির উন্নতি আটকে থাকত না।

ধারাবাহিকভাবে প্রযুক্তির উন্নতি ঘটত আজকের তুলনায় শ্লথ গতিতে হলেও। আর সে প্রযুক্তি কাজে লাগত মানুষের স্বার্থে। শ্রেণিবিভক্ত সমাজের আবির্ভাবের পর তার সুযোগ মালিক সম্প্রদায় আরো বেশি বেশি পেতে থাকে।

কিন্তু পুঁজিবাদের আবির্ভাবের আগে পুঁজির প্ররোচনায় ও তার স্বার্থে প্রযুক্তির ওপর দখল নেওয়ার প্রশ্ন ছিল না। মেহনতি মানুষ তার উৎপাদন ও উৎপাদন প্রক্রিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় নি।

তবে এটা সত্যি যে বাজার ব্যবস্থায় প্রতিযোগিতার সামনে পরে পুঁজিবাদী সংগঠক শ্রেণী প্রুযুক্তি উন্নতিতে উদ্যোগ নিয়েছে, গড়ে তুলেছে গবেষণাগার যা প্রযুক্তি উন্নতির প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করেছে। কিন্তু একই সঙ্গে মেহনতি মানুষের প্রাপ্য থেকে তাকে বিচ্ছিন্ন রেখে বঞ্চিত করে শুধু নিজেদের লাভের স্বার্থে প্রযুক্তির আবিষ্কার ও ব্যবহার করেছে। ঘটেছে লাগামহীন প্রযুক্তির উন্নতি আর এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ভোগবাদ সমরবাদ আর প্রকৃতি নিধন।

স্রষ্টা হয়েছে সৃষ্টি ছাড়া। এই প্রেক্ষাপটে আমরা দেখব প্রযুক্তি মানুষের মঙ্গল নয় লাভের স্বার্থে ব্যবহৃত হয়ে সভ্যতাকে বিপন্ন করেছে, প্রকৃত অর্থে মানুষের অগ্রগমন থমকে গেছে। এটার ওপর আলোকপাত করাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য।

আমরা আরও দেখার চেষ্টা করব বিকল্প সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থায় কিভাবে প্রযুক্তিকে মানবতার স্বার্থে ব্যবহার করা যেতে পারে পুঁজিদবাদী ব্যবস্থায় যেটা লঙ্ঘিত হয়।

এটা স্বীকার করতেই হয় যে পুঁজিবাদের প্রথম যুগে অর্থাৎ প্রতিযোগিতামূলক পুঁজিবাদের যুগে প্রযুক্তি উন্নতির সাহায্যে উৎপাদনের বৃদ্ধি ঘটিয়ে পুঁজিবাদ সমাজ বিকাশে প্রগতিশীল ভূমিকা পালন করেছে। কিন্তু একচেটিয়া পুঁজিবাদের আজকের সংকটকালে নয়া সাম্রাজ্যবাদের যুগে পুঁজিবাদ প্রযুক্তির অপব্যবহার ব্যাপক মাত্রায় বাড়িয়ে নিজের সৃষ্ট সভ্যতারই ধ্বংস করে চলেছে।

তারই পদধ্বনি আজ শোনা যাচ্ছে ভোগবাদ, সমরবাদ আর প্রকৃতি নিধন যজ্ঞে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এশিয়া আফ্রিকা আর লাতিন আমেরিকার দেশগুলো। আমরা ভারতের প্রেক্ষাপটে বিষয়টা আলোচনা করব।

সম্ভাবনার মধ্যেই ধ্বংসের বীজ

সন্দেহের কারন নেই যে মানব সভ্যতার ইতিহাসে প্রযুক্তি বিশেষ ভূমিকা পালন করে। প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে খুলে যায় ভোগ বৈচিত্রের সম্ভাবনার দুয়ার। মানব সমাজের এই অগ্রগমন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে সেই আদিম কালে পৃথিবীতে মানবজাতির আবির্ভাবের ঊষালগ্নেই। সভ্যতারও সূত্রপাত তখন থেকেইI  সেই অর্থে সভ্যতা একটা বহমান ধারণা I

মানব সমাজের প্রগতিতে প্রযুক্তির উন্নতি যে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে তাতে সন্দেহ নেই। পুঁজিবাদ এই বিকাশে এক বিপ্লবী ভূমিকা পালন করেছে বলে পুঁজিবাদের সবচেয়ে বড় সমালোচক কার্ল মার্ক্স ও ফ্রেডরিক এঙ্গেলসও মনে করেন। যে দূরদৃষ্টি নিয়ে এই দুই সমাজবিদ পুঁজিবাদের আবিরভাবলগ্নেই বিশ্বায়নের আগমন বার্তার ইঙ্গিত দিয়ে যান তা আজকের বিশ্বায়নের সর্বোচ্চস্তরের সমর্থকরাও কল্পনা করতে পারেন না।

তবে এই দুই মনীষী  পুঁজিবাদের এই প্রাচুর্যের মধ্যেই যে তার সর্বনাশ লুকিয়ে আছে তা বীক্ষণ করেন। তাদেরও প্রশ্ন থেকে যায় মানবতার স্বার্থে এই প্রক্রিয়া কতদূর কাজ করবে। এই ব্যবস্থাকে তাঁরা  এক আত্মঘাতী সঙ্কটমুখী ব্যবস্থা বলে মনে করতেন কারণ উৎপাদন ব্যবস্থা আর উৎপাদিকা শক্তির মধ্যে এক বিরামহীন দ্বন্দ্ব দেখা যায় যার সমাধান এই ব্যবস্থার মধ্যে নেইI বরং প্রযুক্তির বিরামহীন উন্নয়ন এই দ্বন্দ্বকে তীব্র থেকে তীব্রতর করে কারণ এই ব্যবস্থা ক্রমবর্ধমান উৎপাদিকা শক্তিকে ধারণ করতে পারে নাI তাঁদের বিশ্বদৃষ্টিভঙ্গির প্রেক্ষাপটে আমরাও দেখি :

ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর রূপ তার,

অণু  ভেঙ্গে পরমাণু

খুলে যায় সম্ভাবনার দুয়ার;

তারপর পরমাণু  ভাঙ্গলে !

কে রাখে তাকে  আগলে ?

সে এক বিস্ফোরণ !

মহা শক্তির উৎসরন

নয়া-সভ্যতা, অভিনন্দন।

এরপরও তাঁদের সংশয়, একটা কিন্তু। তাঁরা যেন বলেন:

পদধ্বনি ধ্বংসের না সৃষ্টির ?

তবে মেঘ, সে কি বৃষ্টির ?

যদি সে শক্তি সৃষ্টির বাহক

অবগাহনে কৃষ্টির আয়োজক,

অণুর গর্ভে জন্ম লয় অনুপম

মহান সে জনম।

আজ আমরা শুনি যুদ্ধের দামামা, পরিবেশের প্রতিশোধ, তার আক্রোশ।  ভোগবাদে কলুষিত সমাজ। আমরা বলি:

আবার বিস্মিত আমি,

এ  কি মূর্তি দেখি !

দাপিয়ে বেড়ায়

ধ্বংসের প্রতিমূর্তি, এ কি !

জঙ্গলের ক্রন্দন

সভ্যতার স্খলন।

সর্বত্র হানা দেয় সামরিক বাহিনী। সঙ্গে পরমাণু অস্ত্র:

ফিরে আসে হিরোসিমা বার বার

বন্দী সে জল্লাদের কারায়

মনুষ্যত্বের পরাজয়, জয় মিথ্যার

সত্য তার মান হারায়,

বিরোধ বাঁধে কায়া আর ছায়ায় ,

বনিকের পদলহন

ধর্মের তোয়াজে দহন;

দেখি আমি প্রকৃতির বিরাগ

অধর্মের  প্রতি ধর্মের অনুরাগ,

অনিবার্য পতন, বিপর্যয়,

প্রত্যক্ষ করি মানবতার অবক্ষয়,

সে এক পাপ পূণ্যের মহাজোট

ডেকে আনে সভ্যতার সংকট।

(  রণেশ রায় —- গোধূলি: সভ্যতার সংকট)

প্রযুক্তির অপব্যবহার

মানুষের কায়িক শ্রম এবং তার অভিজ্ঞতালব্ধ শিক্ষা মানুষের চেতনার সঙ্গে যুক্ত হয়ে প্রযুক্তির বিকাশের পথ সুগম করেছে। প্রত্যক্ষ শ্রম ও তার সঙ্গে অভিজ্ঞতালব্ধ শিক্ষা যাকে  আমরা মৃত শ্রম বা নিহিত শ্রম (embedded labour) বলি সমবেতভাবে প্রযুক্তির বিকাশ ঘটায়।

এটি একটি বহমান ধারণা। নতুন কিছু নয়। সুতরাং আজকের ইলেক্ট্রনিক্স শিল্প ও তার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা তথ্য প্রযুক্তি উন্নতির যুগটাকেই প্রযুক্তির যুগ বলে ভাবার কারন নেই।

এই প্রসঙ্গে সত্যজিৎ রায়ের `আগন্তুক` চলচিত্রের নাম মনে পড়ে। গাছ থেকে ফল পাড়া, জলে মাছ ধরা, আশ্রয় তৈরী, আগুনের ব্যবহার, লোহার ব্যবহার সবই প্রযুক্তির উন্নতির বহমানতার নিদর্শন বহন করে।

জ্ঞানের  সমাবেশ আর সঞ্চয় ঘটে, মানুষের চেতনার উন্মেষ ঘটে । শ্রমের ফলে যে জ্ঞানের বিকাশ ঘটে তার সঞ্চয় ভান্ডার হল আমাদের চেতনা। সেটাই সভ্যতার আঁধার। পরবর্তী প্রজন্মের কাছে সেটাই শিক্ষার উপাদান।

আজকে সঙ্কটকালীন একচেটিয়া পুঁজিবাদের তথা নয়াসাম্রাজ্যবাদের যুগে আন্তঃজাতীয় কর্পোরেশনের (Transnational Corporation) রাজত্বকালে  ভয়ঙ্কর মাত্রায় আবির্ভূত হয়েছে চারটি বিষয়—— প্রযুক্তিবিপ্লব ও তার অপব্যবহার, সমরবাদ, ভোগবাদ আর দূষণ ও জঙ্গল সাফের দৌলতে প্রকৃতির উষ্মায়ন।

এই প্রতিটি বিষয় বহুমাত্রিক হওয়ায় পৃথক আলোচনার দাবি রাখে। আমরা এদের ওপর সংক্ষিপ্ত আলোচনা সেরে নেব। এই সমস্যাগুলোকে উদারনীতিবিদরা দুষ্টসমস্যা বললেও তারা উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় এদের অবশ্যম্ভাবী বলে মনে করেন।

সমস্যাগুলো সমূলে উৎপাটন করা বা এগুলোর  যাতে উদ্ভব না হয় তা না ভেবে সমস্যাগুলো এলে নেহাৎ মৌখিকভাবে তার প্রতিকারের ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়। ভোগবাদ আর সমরবাদকে অস্বীকার তো করা হয়ই না বরং বাণিজ্যের স্বার্থে লোভ চরিতার্থ করার জন্য তাকে মদত করা হয়। অথচ আমরা জানি দারিদ্র, দুর্ভিক্ষ, মহামারী থেকে এ সমস্যাগুলো কোনভাবেই কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।

পুঁজিবাদী ব্যবস্থাকে এগুলো আরও সঙ্কটাকীর্ণ করে তুলেছে। আরও বেশি মানুষকে পুঁজিবাদের সঙ্কট স্পর্শ করছে। প্রকৃতিবিদ দেশপ্রেমিক শক্তি আর শ্রেণী সংগ্রামে বিশ্বাসী মার্কসবাদীদের পরস্পরের কাছাকাছি টানার শর্ত তৈরী করছে।

এই ব্যবস্থার মধ্যে থেকে সমস্যাগুলোর কোনোটাই যে মেটানো যাবে না তা উপলব্ধি করার সময় এসেছে। এ নিয়ে কাউকে উদাসীন থাকলে চলে না।

আজ নয়া-উদারনীতিবিদরা শ্রম থেকে চেতনাকে বিচ্ছিন্ন করে দেখাবার চেষ্টা করে। চেতনা যেন শ্রম নিরপেক্ষ অতিপ্রাকৃতিক প্রতিভা যা জন্মসূত্রেই পাওয়া যায়। শ্রমের সঙ্গে তার সম্পর্ক নেই। এটাই হল জন্মলব্ধ বুদ্ধিবৃত্তি যা প্রযুক্তির জন্ম দেয়। উচ্চবিত্তরাই এর ধারক ও বাহক। শ্রমজীবী মানুষের এর ওপর দাবি থাকতে পারে না।

জন্মসূত্রে পাওয়া বিশেষ প্রতিভার প্রচেষ্টায় গবেষণাগারে প্রযুক্তির জন্ম হয়। পুঁজি খরচ করে যে পুঁজিপতিরা এই গবেষণাগার তৈরী করে তাদেরই প্রাপ্য প্রযুক্তি এবং তার ফল। পুঁজির মালিকানার জোরে প্রযুক্তির ওপর প্রাধান্যকামী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণ কায়েম হয় সেটাকে আড়াল করার চেষ্টা চলে।

বলা হয় না যে তারা নিজেদের স্বার্থে প্রযুক্তির ব্যবহার করে। আর এর থেকেই উদ্ভব ঘটে ভোগবাদ আর সমরবাদ। এছাড়া এমন প্রযুক্তির আজ অবাধ ব্যবহার যা প্রকৃতির ভারসাম্য বিঘ্নিত করে, এমন পণ্য সামগ্রী উৎপাদনে সাহায্য করে  যা মানুষের স্বাস্থ্যের পক্ষে মারাত্বক। আজ এটা প্রমাণিত সত্য।

এই কারনে উন্নত `সভ্য` দেশগুলো অজস্র এমন পণ্যের উৎপাদন ও ভোগ নিজেদের দেশে নিষিদ্ধ করেছে। কিন্তু তাদের বহুজাতিক সংস্থাগুলোর স্বার্থে তা ভারতের মত তৃতীয় বিশ্বের দেশে অবাধে উৎপাদন করে তা নিয়ে ব্যবসা করে চলেছে। গরিব দেশের মানুষেরা এর ভোক্তা। সবই চলে খরচ কমিয়ে লাভ বাড়ানো আর তার সঙ্গে বাজার দখলের তাগিদে।

এভাবে মানুষের ক্ষতি করে প্রযুক্তির অপব্যবহারের প্রবণতাকে আমরা প্রযুক্তি সর্বস্বতা বা প্রযুক্তিবাদ বলি। সুতরাং প্রগতির স্বার্থে প্রযুক্তির আবিষ্কার প্রযুক্তির ব্যবহার আর প্রযুক্তিসর্বস্বতা তথা প্রযুক্তিবাদ এক বিষয় নয়। প্রযুক্তি সর্বস্বতা বা প্রযুক্তিবাদ প্রযুক্তির বিকাশ ও আবিষ্কারের আসল কারিগর শ্রমজীবী মানুষের অবদানকে অস্বীকার করে।

যুক্তিবাদকে অস্বীকার করে তার জায়গায় স্থান দেয় ভাববাদকে যা অতিপ্রাকৃত সর্বশক্তিমান তথা ভগবানের অনুগ্রহের কারাগারে মানবসমাজকে বন্দি করে রাখতে সচেষ্ট হয় ।

ব্যবস্থাটাকে টিকিয়ে রাখার জন্যই ভোগবাদ আর সমরবাদকে মদত করা হয়। দেখলাম  যে প্রযুক্তি, প্রযুক্তির উন্নতি আর প্রযুক্তিবাদ এক বিষয় নয়। আমাদের কোন কোন বন্ধু উভয়কে এক করে দিয়ে আমাদের ওপর মিথ্যা আক্রমন হানে।

বলে যে আমরা মার্কসবাদীরা প্রযুক্তি ও প্রযুক্তির উন্নতি চাই না। আদিম বর্বরতার জাদুঘরে গরিব অসহায় মানুষকে বন্দি করে রাখতে চাই। আমরা স্পষ্ট জানাতে চাই যে আমরা প্রযুক্তি চাই, প্রযুক্তির উন্নতিও চাই।

কিন্তু তা ব্যবহৃত হবে জনকল্যাণে। মুষ্টিমেয় মানুষের লোভ চরিতার্থ করার জন্য নয়। সমরবাদ ভোগবাদকে প্রশ্রয় দেওয়ার জন্য নয়। প্রকৃত নিধন করে নয়। উদারনীতিবাদদের সঙ্গে আমাদের বিরোধ এখানেই। আমরা প্রযুক্তি নয় প্রযুক্তিবাদের বিরোধী। আমরা বিকল্প আধারে বিকল্প অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় সঠিক প্রযুক্তি সঠিকভাবে কিভাবে ব্যবহৃত হতে পারে তার ওপর আলোকপাত করতে পারি।

সেটা সবস্তরের মানুষকে ভোগবৈচিত্রের সুযোগ করে দিয়ে তাদের জীবন ধারনের মান বাড়াতে পারে। যারা প্রকৃত অর্থে প্রযুক্তি উন্নতিতে  অবদান রাখে তারা তার ফল ভোগ করতে পারে। নিজেদের সৃষ্টি থেকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন ভাবে না। মুনাফাবাজ ভোগবাদ আর সমরবাদকে মদত দিতে হয় না। প্রযুক্তি হতে পারে পরিবেশবান্ধব, শত্রু নয়।

প্রাধান্যবাদী এই ব্যবস্থায় শ্রম ও যুক্তি সৃষ্ট প্রযুক্তির মালিকানার ওপর দখল পায় পুঁজিপতিগোষ্ঠী। মানুষ তার নিজের সৃষ্টির থেকে বিচ্ছিন্ন হয়। স্রষ্টা হারায় সৃষ্টি তার, মালিক হয় দখলদার। ফলে উন্নত প্রযুক্তির দরুন যে শ্রম সময় বাঁচে, খরচ কমে , উৎপাদনে বৈচিত্র আসে তার সুফল শ্রমজীবী মানুষ  পায় না। তাদের শ্রম সময় কমে না, প্রকৃত মজুরি বাড়ে না।

বরং উন্নত প্রযুক্তিতে শ্রম নিবিড়তা বাড়ে। শ্রমিক ছাঁটাই হয়। দীর্ঘদিন লড়াই করে শ্রম সময় কমাতে সক্ষম হয়েছিল শ্রমজীবী মানুষ। আজ কর্মসংকোচনের যুগে আবার শ্রমজীবী মানুষকে আট ঘন্টার বেশি কাজ করতে বাধ্য করা হচ্ছে। কোথায় প্রযুক্তির উন্নতির সুযোগ কিছুটা হলেও শ্রমজীবী মানুষ পাবে তা নয় বরং তাদের ওপর শোষণ বেড়ে চলেছে। অপরদিকে মালিকের লাভের সুযোগ বাড়ে কারন উৎপাদন প্রক্রিয়ায় উদ্বৃত্ত শ্রম সময় ও তার সাথে উদ্বৃত্ত মূল্য বাড়ে।

মুষ্টিমেয়ের হাতে সম্পদের সমাবেশ ঘটে। পুঁজির সঙ্গে সঙ্গে উৎপাদনের কেন্দ্রীভবন বাড়ে। একই সঙ্গে দখলদারি ব্যবস্থায় দখল বজায় রাখার জন্য সমরবাদের বিস্তার ঘটে। বাজারে উৎপাদিত পণ্যের বন্যা বয়ে যায় বলে তা বিক্রি করতে হয়। চাহিদা বাড়াবার নানা ব্যবস্থা করতে হয়। ভোগবাদের সংস্কৃতি গড়ে তোলা হয়। ঋণের মাধ্যমে ভোগ্য দ্রব্য ক্রয়ের সুযোগ করে দিতে হয়।

পরিবেশের প্রশ্নে আমরা দেখি আজ মূল ভারতে যে সব শহর গড়ে উঠেছে সেখানে দূষণ যে মাত্রায় গিয়ে ঠেকেছে তাতে অদূর ভবিষ্যতে ভারত যে প্রাকৃতিক বিপদের মুখে পড়বে সেটা  পুঁজিবাদের সমর্থকরাও স্বীকার করতে বাধ্য হচ্ছে। তাও সমর শিল্প নোংরা শিল্প ও নির্মাণ শিল্পের আক্রমন কমছে না বরং বেড়ে চলেছে। গ্রামের পর গ্রাম ধ্বংস করে হয়ে চলেছে এক ধূসর নগরিকরন। দেশের আদিবাসী অধ্যুষিত অঞ্চলগুলোর ওপর খনি লুঠের তাগিদে নজর পড়েছে বহুজাতিক সংস্থার।

সবুজকে জঙ্গল সাফ করে মানুষকে জীবিকাচ্যুত করে চলছে শিল্পের নামে এক ধ্বংসলীলা। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার মরে খনিজ সম্পদ লুঠ করে কর্পোরেট সস্থার দাবি মেটাতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বিদেশে। ভারতব্যাপি যে উন্নয়নযোগ্য চলছে তাতে উচ্চবিত্তরা আরো বড়লোক হচ্ছে আর প্রান্তিক মানুষদের আরো প্রান্তিকরণ ঘটে চলেছে। এই প্রসঙ্গে আমরা আজের ভারতের প্রান্তিক অঞ্চলের ওপর আক্রমনের নমুনাটা তুলে ধরতে পারি। কিভাবে পরিবেশের সর্বনাশের ক্রিয়াকান্ড চলছে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে সেটা দেখে নিতে পারি।

প্রযুক্তি ব্যবহারে সঠিক দিশা কে দেখাতে পারে

প্রযুক্তি যদি মানবতার ধর্ম পালন করত তবে তা কর্ম সঙ্কোচন ঘটাতো না। উৎপাদনে শ্রম সময় কমত। শ্রমজীবী মানুষ অবসর পেত। শিল্প সংস্কৃতি উন্নতিতে তাদের সৃষ্টিশীল মননের স্ফূরণ ঘটত যা সভ্যতাকে নতুন মাত্রা দিত। ভোগবাদের বা সমরবাদের বিস্তার ঘটাবার প্রয়োজন হত না। অথচ ভোগ বৈচিত্র এনে শ্রমজীবী মানুষের জীবনমান বাড়ানো যেত।

উল্লেখযোগ্য যে ভোগ আর ভোগবাদ এক নয়। জীবন-এর  মান বাড়াতে ভোগ বৈচিত্র এবং প্রয়োজনে ভোগের মাত্রা বাড়ানো অবশ্য-ই দরকার। কিন্তু সব জলাঞ্জলি দিয়ে ভোগ সর্বস্বতা এবং তার জন্য ব্যাপক মানুষকে বঞ্চিত করে মুষ্টিমেয়র ভোগ লালসা যাকে আমরা ভোগবাদ বলি তা সমর্থন করা যায় না।

আজ নয়া সাম্রাজ্যবাদের যুগে সেটাই ঘটে চলেছে। একটা দেশে ব্যাপক আয় বৈষম্য সৃষ্টি করে সংখ্যা গরিষ্ঠ শ্রমজীবী মানুষকে নিরক্ষর আধপেটা রেখে তাদের চিকিৎসা আশ্রয়ের ন্যূনতম ব্যবস্থা না করে মুষ্টিমেয়ের বিলাস জীবন যাপনের পথ করে দেওয়া হয় এই ব্যবস্থায়। সেটাতে-ই আমাদের আপত্তি।

এবার দেখা যাক আমরা এই পুঁজিবাদী ব্যবস্থার বিকল্প যে সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার কথা বলি তা সঠিকভাবে রূপায়িত করতে পারলে সমরবাদ  ভোগবাদের দাসত্ব না করে পরিবেশকে রক্ষা করে কিভাবে প্রযুক্তির সাহায্যে প্রগতিকে সুনিশ্চিত করতে পারি। পুঁজিবাদের বিকল্প সমাজতান্ত্রিক সমাজে ব্যক্তিপুঁজি বিকাশের সুযোগ প্রতিহত করা হয়।

প্রথম পর্যায়ে যতদিন সমাজ শ্রেণীবিভক্ত থাকে রাষ্ট্র দুষ্ট অথচ প্রয়োজনীয় (necessary evil) হলেও ঐতিহাসিক কারনে টিকে থাকে, তাকে টিকিয়ে রাখতে হয়, রাতারাতি উবে যায় না। এই সমাজতান্ত্রিক গঠন কালে রাষ্ট্র উপকরণের মালিক হয়। ব্যক্তিমালিকনার  প্রান্তিকরন ঘটে। এর উচ্চতর স্তর যাকে লেনিন সাম্যবাদ বলেছেন সেই স্তরে রাষ্ট্র থাকার প্রয়োজন হয় না।

ঐতিহাসিক ভাবে তার অবলুপ্তি ঘটে, সে উবে যায়। গোষ্ঠীবব্ধ ভাবে সমাজ উপকরণের মালিক হয়। এই স্তরে উন্নত পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি শ্রমজীবী মানুষকে শ্রম সময় বাঁচাবার সুযোগ দেয়। তাদের এই সুযোগ দিয়েও বাড়তি উদ্বৃত্তের সাহায্যে পুঁজিগঠনের কাজ চলে যার মালিক ব্যক্তি নয় প্রথম স্তরে রাষ্ট্র ও পরবর্তী সাম্যবাদের স্তরে সমাজ হয়। এর ফলে ব্যক্তিপুঁজির শোষণ বন্ধ হয়।

সমাজের  প্রয়োজনে পুঁজি, উপকরণ ও শ্রমশক্তিকে ব্যবহার করা হয় বলে তার মালিকানা সমাজই ফিরে পায়। উৎপাদন প্রয়োজন অনুযায়ী শ্রমজীবী মানুষের মধ্যে বন্টিত হয়। ক্ষমতা অনুযায়ী দেওয়া আর প্রয়োজন অনুযায়ী নেওয়ার নীতির ভিত্তিতে।

অযথা ভোগবাদকে মদত করে না। অথচ বন্টনে সমতা থাকায় এবং তা প্রয়োজন ভিত্তিক হওয়ায় মানুষের ভোগ বৈচিত্র বাড়ে। বিলাসিতার সুযোগ থাকে না। একই সঙ্গে একজন তিনটে বাড়ির মালিক হয় না বা উচ্চবিত্তদের প্রত্যেকের হাতে তিনটে করে মোবাইল থাকে না। সবাই ন্যূনতম প্রয়োজন মেটাতে পারে। আর উন্নতির সাথে সাথে এই ন্যূনতম স্তরটা বাড়তে থাকে।

বেড়ে যদি প্রয়োজনে মানুষকে গাড়ি ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া যায়, ঘরে উন্নত জীবন যাপনের ব্যবস্থা করা যায় তাতে আপত্তির কিছু থাকে না। দশজনকে মেরে একজন একাই ভোগ করে না। একজনের হাতে বা পাতে জমা হয়ে অপচয় হয় না। অথচ ক্রমান্বয়ে সকলের জীবন যাপন বাড়তে পারে। সুচিন্তিত ভাবে পরিকল্পনা অনুযায়ী অগ্রাধিকার স্থির করা যায়। বাজারের স্বতঃস্ফূর্ততা যা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে তার ওপর নির্ভর করতে হয় না।

এই ধরনের অর্থনীতিতে পরিবেশ শত্রু প্রযুক্তির  ব্যবহার এড়িয়ে যাওয়া যায়। পরের ওপর নিজের প্রাধান্যবাদ চাপিয়ে দেওয়ার যুদ্ধ থেকে সমাজকে মুক্ত করা যায়। বিদেশের কাছে নিজেদের সম্ভ্রম বিসর্জন দিতে হয় না। একেই প্রকৃতপক্ষে আওতাভুক্ত উন্নয়ন বলা হয়। উদারনীতিবিদরা

যে আওতাভুক্ত উন্নয়নের কথা বলে তা মুনাফাবাজি বজায় রাখে, ব্যক্তিপুঁজির শোষণকে আইনসম্মত মনে করে। সেক্ষেত্রে উন্নয়ন আওতাভুক্ত হতে পারে না। আওতা বহির্ভূত হয় কারন উন্নয়নের ফসল বিত্তবানরাই ভোগ করে। আয়বন্টনে অসমতা সমাজের বিভিন্ন মানবগোষ্ঠীর মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি করে। আমরা বন্টনের যে সমতার কথা বলি তা চূড়ান্ত অর্থে সমতা নয়।

প্ৰয়োজনভিত্তিক বন্টনের কথা বলা হয়। এই প্রসঙ্গে বলা দরকার যে এই মুহূর্তে অসম বন্টনের রাজত্বে অভ্যস্ত থেকে আমরা এই আদর্শ ব্যবস্থাকে কাল্পনিক ভাবতে পারি কারন উদারনীতিবাদীদের টিকে থাকার জন্য প্রতিযোগিতা অন্যকে মেরে টিকে থাকার জীবনে আমরা অভ্যস্ত হয়ে উঠেছি।

আত্মকেন্দ্রিক মানুষের লালসা লোভ আমাদের আষ্টে পৃষ্ঠে বেঁধে রেখেছে। কিন্তু মানুষের সহমর্মিতা পারস্পরিক বিশ্বাস তার সমাজ ভাবনা সেগুলো যদিও অনেক বেশি সত্য।

এই গুনগুলোকে এই ব্যবস্থা খুন করে। অথচ সব সাধারণ মানুষ সেগুলো নিয়ে সুখে থাকতে চায়। জীবনে নিজের জন্য ক্ষুন্নিবৃত্তি তাদের জীবন দর্শন নয়। সেটা হতে পারে না।

 তাই উপযুক্ত ব্যবস্থায় তার ভাগ করে চলার দর্শন যদি পুষ্টি পায় তবে আমাদের স্বপ্নের সমাজ বাস্তবায়িত হয়। উদারনীতির আত্মকেন্দ্রিক দর্শনের মুখের ওপর জবাব দেওয়া যায়। শ্রমজীবী মানুষের শ্রমশক্তি আরও ভারসাম্য ও মানবিক যুক্তিতে বন্টিত হতে পারে। আর এ পথেই মানুষ পুঁজির দাসত্ব থেকে মুক্তি পেতে পারে।

নতুন ব্যবস্থায় শ্রমজীবী মানুষ তার সৃষ্টি থেকে বিচ্ছিন্ন হয় না। তার সৃষ্টি সমাজের সম্পদ বলে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।এর জন্য দরকার এই সমাজটাকে ভেঙে নতুন সমাজের জন্ম দেওয়া। অস্ত্রে সজ্জিত এই ব্যবস্থার রক্ষাকর্তা রাষ্ট্র। তাকে বলপূর্বক উচ্ছেদ করেই সেটা করা সম্ভব। তার নিজের মধ্যেই উচ্ছেদের বস্তুগত (objective) শর্ত নিহিত আছে যেটা মার্ক্সবাদ দেখিয়ে দেয়।

সেই সম্ভাবনা প্রত্যক্ষ করেই তিনি বলেন, “পূরণো সমাজের গর্ভে নতুন সমাজ যা নিহিত থাকে তার প্রসব ঘটাতে শক্তি-ই ধাত্রীর কাজ করে“।   কিন্তু আপনা থেকে তা হয় না। আত্মগত শর্তকে (subjective condition) তৈরী করতে হয়।

অনেক আত্মত্যাগের মধ্যে দিয়ে তিক্ততম সংঘর্ষের মধ্যে দিয়েই একে উচ্ছেদ করে আমাদের স্বপ্নকে সফল করা সম্ভব।এবং এটা একটা ঐতিহাসিক অনিবার্যতাও । অনেক হতাশার মধ্যেও সেইজন্যই বোধহয় জীবানন্দ দাশ বলেন :

“সুচেতনা, এই পথে আলো জ্বেলে  —– এ পথেই পৃথিবীর ক্রমমুক্তি হবে;

সে অনেক শতাব্দীর মনীষীর কাজ;

এ বাতাস কী  পরম সূর্যকরোজ্জ্বল

প্রায় ততদূর ভালো মানব-সমাজ

আমাদের মতো ক্লান্ত ক্লান্তিহীন নাবিকের হাতে

গড়ে দেব, আজ নয়, ঢের দূর অন্তিম প্রভাতে।“

দ্রষ্টব্য:  সংকটের সভ্যতা——-  রণেশ রায়; বিক্ষুব্ধ এ ভারত——  রণেশ রায়

প্রকাশিত প্রবন্ধের মতাদর্শ এবং তথ্য সম্পূর্ণভাবে  লেখকের নিজস্ব ভাবনা এবং পরিকল্পনায় নির্মিত ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *