সব বুঝলে পৃথিবী অবাক ! 

অব্যক্ত  //     শ্যামল কুমার রায়

.
        চেনা মুখ, অচেনা মানুষ ,
       স্থির চোখ, পরিচিত লোক,
       না বলা কথা , বুঝে নিতে হয়।
      সকাল বিকেল, বাজার ঘাট ,
      পরিচিত মুখের মিছিল থাক ।
     চলা ফেরা সব মাপজোক হয় ,
    স্থির চোখ গোটা শরীর মেপে নেয় ।
     আড় চোখে সব দেখা শোনা হয় ,
     বাঁকা চাউনি কি বলতে চায় ?
     যা বুঝিনি, তা না বঝাই থাক ,
      সব বুঝলে পৃথিবী অবাক !
.

তোমার ভালবাসাই // শান্তনু জানা

.
কি পেলাম তোমায় ভালোবেসে,
সবকিছু ছিল যেন আবেগেমিশে।
সত্যের আলতো ছোঁয়া লেগেই শেষ হল সব একনিমেষে।
ভালোবাসা মানে কি কষ্ট সহন,
বোঝালে আমায় করে ভালোবাসার দহন।
ভালোবাসা সুখ পাখি,
মনে কত স্বপ্ন আঁকি,
সেই স্বপ্ন গিয়েছে ভেঁঙে,
দিয়ে আমাকে ফাঁকি।
ভালোবাসা শেষ করে তাই লিখেছি আমি শায়েরি,
চোখের জলে আজও ভিজে আমার প্রিয় ডায়েরি।
.

শেষ পরিচয়  //  বটু কৃষ্ণ হালদার

বাইবেল, কোরান, গীতা র পাতা উল্টাই,
খুঁজে পেতে জীবনের মানে,
বদলায় নি একটু ও আপন চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য
ব্যস্ত, অন্যকে নিজের মত করে গড়ার অবগহনে
বিশ্বাস, স্নেহ, ভালোবাসা, মায়া, মমতা, এতো সবই মহাপুরুষ দের বাণী
তবু ও মিথ্যে র মাঝে খুঁজি সত্যের আলাপন
বাণী, সে তো দুই টি কানে শুনি….
আপন স্বার্থে নির্লজ্জ দের মত করি শুধু হানা হানি.
চারশত বৎসর পূর্বের, দিগন্ত ফেরত লাল সূর্য টা আজও অক্ষত
সুদীর্ঘ সময়ের একক ছায়াসঙ্গী
সব কিছু আজ হায় আধুনিকতায় মোড়া
বদলায়নি একটু ও আপন দৃষ্টি ভঙ্গি.
আলো, বায়ু, জল একই সাথে অনুভ বে পাই
এরা তো বাঁচে পরের তরে
কারো হৃদয়ে কি পেয়েছিল ঠাঁই?
দূষণের মূল মন্ত্রের জীওন কাঠি আপন হস্তের মূল অস্ত্র
গড়নের কারিগরি, এই দুই হাত দিয়ে অন্য কে করি বিবস্ত্র.
হৃদয়ের,যন্ত্রণা, গ্লানি ঝেড়ে ফেলি যত
পাওয়া, না পাওয়ার মাঝে খুঁজি সুখ
এ পাষাণ  হৃদয়ে বেদনা আছে অক্ষত.
চার কড়া জমিনে জীবনের শেষ পরিচয়
এ সময় নয় তো আপন, বেশ,ভূষl, প্রাণ প্রিয়, গহনা, সম্পত্তি, পয়সা, কড়ি
অভুক্ত পৃথিবীর সাজানো পসরার মাঝে
কোন নেশার ঘোরে?
সেই  জমিনে মন্দির, মসজিদ, চার্চ গড়ি  ।
.

পিড়িং পিড়ং – ২৭  //    মাধব মন্ডল

যদি হয় বড় য়্যা
খুব খুব কষা কষা
ভোরে উঠে কোরো শুধু
খুব জোর ওঠা বসা।
তাতে যদি হয় কাজ
খুব ভালো হল
না হলে ইশবগুলের ভুষি
রেডি আছে বোলো।
নাহলে শালুকের ফুল বাটা
দুধ দিয়ে খেও
বেশি নয় দিন পাঁচ
তারপর যেও।
তারপর কবিরাজী
হোমিওই নামিও
তারপর এ্যালোপ্যাথি
শেষকালে থামিও।
.

সাক্ষাৎকার  // মাধব মন্ডল

.
ছিটেল আপনি?
না তো, তবে অগ্রিম বুঝতে দিই না।
সেরা বাল্যস্মৃতি?
দুঃখের হলে বাবাকে হারিয়ে মাথার ছাদ হারানো
আর সুখের হলে বিদ্যাধরীর জোয়ার ভাঁটা।
আর সেরা হাসির?
বর্ষাতে পিচ্ছিল পাঁক পথে বারবার আছাড় খেতে খেতে হাই স্কুলে যাওয়া।
সেরা নাম?
স্বপ্না নামের কাউকে খোঁজা।
সেরা খাবার?
সদ্য তোলা শামলা আর ঢ্যাঁপ আর শালুক।
সেরা উষ্ঞতা?
বাবার বুকে মাথা রেখে রাতে ঘুমানো।
সেরা কষ্ট?
আমাকে রেখে মায়ের মামা বাড়ি যাওয়া।
সেরা উপাধি?
গাধা খাস্তা নাম অর্জন।
সেরা সখ?
দুপুরবেলা দলবেঁধে পুকুরঘাটে পুঁটিমাছ ধরা।
সেরা দুর্ঘটনা?
সদ্যফেলা ঘুঁটের আগুন-ছাই নিয়ে খেলা আর গোয়ালের খড়ের চালে অসাবধানে কখন যে একটা দু’টো সেটা পড়ে আর আগুন লাগে!
.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *