ভালবাসার নদী উজান যদি চলে 

উঠানে  //  মিজানুর রহমান মিজান

উঠানে দাড়িয়ে বালা মোবাইল ফোনে কথা কয়
কত ঢঙ্গে অঙ্গ দোলায় বুঝি মনে ফাগুন বয়।
মাথা আউলা লাগে বাউলা রসের আলাপনে
খেয়াল নেই তার ভাবছে কি অপর জনে
প্রেমালাপে মত্ত রয়।
মাথা খোলা হাতে নেই বালা
হাত ঘুরিয়ে চপল পায়ে চিকন গলা
কথায় ফুটে খৈ উচছ্বাস অতিশয়।
যৌবন জ্বালা ডাকে কালা আস কাছে
বিলম্ব সয় না জলদি করনা আনুগত্য যাচে
জোয়ারে প্লাবিত হয়।
ভালবাসার নদী উজান যদি চলে
কুলমান ছেড়ে নিন্দার দৌড়ে বলে
পাগলপারা ভালবাসার নেই ক্ষয়।

.

দুরন্ত ছোটবেলা। রাহুল মাহাতো

(গ্রাম্য কথ্য ভাষা তে)

মনে পড়ে দিনগুলি
বাগডুলুর মুড় কেটে দিতাম সুলি।
মানতাম না পাপ পূন্য
ঘটে তখন বুদ্ধি শূন্য।
সে এক অনন্য নেশা
পড়াশোনা নয় বাগডুলু ধরাই ছিল পেশা।
খামারে পড়তে বসতাম
বই ছেড়ে বাগডুলু ধরতাম।
প্রাইমারী স্কুলেও একই অবস্থা
তখন ছিল না মিড-ডে মিলের ব্যবস্থা।
সময় কাটতো ইটা উটা খেলা দিয়ে
আমাদের কাটতো বাগডুলু নিয়ে।
দল বাঁধ্যে খুঁজথি
জীব হত্যা পাপ তখন নাই বুঝথি।
একটার পিছনে চারজন
যে ধরতো তার আনন্দ তখন বেদম।
বাগডুলু নিয়ে করেছি তখন খুব আনন্দ
বুঝতাম সেটা ভালো না মন্দ।
শুধুই ভাবতাম এটা একটা খেলা
আর সেটার ছিল না নির্দিষ্ট কোন বেলা।
অনেক পাপ করেছি আজ বুঝতে পারছি
তাই সেটা বুঝে স্বীকার না করে থাকতে লারছি।।
.

.

সেই মেয়েটিকে  //  সুমন্ত রায়

রাস্তার ভিড়ে
তাড়াতাড়ি পায়ে ,
হেঁটে চলা সেই মেয়েটিকে
দেখেছ কি কখনো?
গা বাঁচিয়ে
ট্রেনে বাসে চড়ে,
অনেক ঝক্কি সামলে
অফিস পৌঁছায় সে।
হাতের ঘড়িটির
দিকে তাকিয়ে ,
কত ভেবেছে হারিয়ে যাওয়া
রাস্তায় মাড়ানো সময়কে।
দিন ভাবে
ফিরে তাকাবে ,
একবার সে নিজের দিকে
ভাববে তার জীবনটাকে নিয়ে।
ঘরের সেই
ফাট-ধরা দেওয়াল,
বৃদ্ধ চোখের দৃষ্টি এড়িয়ে
নিজেকে অবহেলা করে
হেঁটে চলা সেই মেয়েটিকে
দেখেছ কি কখনো?
কখনো একান্তে
বসে দেখে,
সুর্যের অস্তগামী আলোতে,
কত পাখি ফিরে যাচ্ছে নিজের ঘরে।
সকাল হলে
আবার ছুটবে,
সেই রাস্তার ভিড়ে সেখানে
হেঁটে চলা সেই মেয়েটিকে
দেখেছ কি কখনো?
.

আল কোরানের আলো 
সব্যসাচী নজরুল

পুব আকাশে সূর্যি মামার
আলো যখন ফোটে
ঠিক তখনই খোকা খুকু
মক্তবেতে ছোটে।

সূরা কেরাত সূরে পড়ে
সকল শিশুর দলে
মহা প্রভুর কালাম যেন
বুলবুলিতে বলে।

ছুটি হলে সবাই ছোটে
বাড়ির পথ পানে
হাসি-খুশি হই হুল্লোড়ে
ফুল-পাখিদের গানে।

খোকা খুকুর হাসি দেখে
সুর্যি মামা হাসে
আল কোরানের আলো যেন
সব হৃদয়ে আসে।

পিড়িং পিড়িং – ৩৫  //  মাধব মন্ডল

রোদ উঠেছে খিলখিলিয়ে
হাসছে দেখো ঝিলমিলিয়ে
দুষ্টুসোনা ভাইটি।
তাই না দেখে লেজ উঁচিয়ে
আসলো ছুটে কান খুঁচিয়ে
শান্ত দুধেল গাইটি।
দুধ দেবে সে মিষ্টি হেসে
থাকবে এবার কাছও ঘেঁষে
চাইবে শুধু লাইটি।
উলুকঝুলুক ভাইটি
লাইটি পেয়ে গাইটি
তুলল ফেলে হাইটি।
.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *