অণুগল্প , কবিতা , ছড়া

বিবেক  //  সুদীপ ঘোষাল

রতন রাতে প্রচন্ড ঠান্ডায় ঘুমন্ত ছেলের কম্বলটা ঠিক করতে গিয়ে শুনলো কথাগুলো। অথচ সামনে কেউ নেই। কথাগুলো শুনতে পাচ্ছে রতন। কে যেন বলছে, নিজের ছেলের ঠান্ডা লাগবে বলে খুব চিন্তিত তুমি। অথচ ফুটপাতে, স্টেশনে পোশাকহীন ছেলেমেয়েরা শীতে কাঁপছে। তোমার কি কোনো দায়িত্ব নেই?

অন্তত তোমার পুরোনো একটা জামা দিয়ে ওদের নগ্নদেহ ঢাকো।

নচেৎ মানুষ বলে নিজের পরিচয় দিও না…       

.

কুহক // সীমা চক্রবর্তী 

 তুমি কি আমার ছন্দ মিলের পদ্য হবে
 নিত্য নতুন লিখন হয়ে বুকের ভিতর রবে?
 থাকবে তুমি আমার সত্ত্বায় আমার মননে
 দেখবো তোমায় নিশিদিন শয়নে স্বপনে।
 যেমন থাকে শিশু তার মাতৃ জঠরে
 তেমন তুমি থাকবে নিরন্তর আমার অন্তরে।
 হৃদয়ের বারতা বুঝে নিও, আমার স্পর্শতায়
 উঠবো বেঁচে প্রতিনিয়ত তোমার উদ্দামতায়।
 যতোই আসুক সহস্র আঘাত সারাটি জীবন ধরে
 তবুও তুমি রামধনু এঁকো হৃদয় মাঝারে।
 অশ্রু হয়ে কখনো যদি ঝরতে তুমি চাও
 বিন্দু হয়ে পরার আগেই শুষে নেবো তাও।
 পূন্য জলের ধারা হয়ে সিক্ত করো মন
 আমার ছন্দ ফাঁদেই হোক তোমার সমর্পণ।
.

শমন  // সত্যেন্দ্রনাথ পাইন

অশনি সংকেত
প্রাচীন পাপের চিহ্ণ বহন করে চলেছে
মানব জীবন।
জীবনবোধের নাট্যশালায় কত রাত
কেটেছে পুরুষ নারীর প্রণয়লীলায়
যৌনমিলনে। বয়স
বাঁধ মানেনি । মায়ের বয়সী নারীকে নিয়ে
মত্ত পুরুষের ভালোবাসার কথা
নৈতিক না অনৈতিক সম্পর্ক
রক্ষিতা না আত্মবিশ্বাস নিয়ে
সুন্দর সবকিছু এঁকে বেঁকে ফিরেছে।
ছুরির ফলায় নারী ক্ষুধার্ত
সৌন্দর্যের লীলাভূমি স্বপ্নজাত
স্পর্শময় রঙিন বনফুল।
বিছানায় নারী পুরুষ নির্বিশেষে প্রেম নিবেদন
কল্পনা, দুর্ঘটনা, না যৌনমিলনে অংশগ্রহণ
ভাবভঙ্গি ভূবন দর্শন
বিবাহিত বিবর্ণ গুরুত্বপূর্ণ বাস্তব
উপন্যাসের অন্তর্দাহকে পাথর করে
মিশে গেলাম অস্তিত্বের শিকড়ে…..
.
.

পিড়িং পিড়িং – ৩৬   //  মাধব মন্ডল

জলের উপর রোদের মায়া
গাছের ছায়া
তাদের নাচায় ঢেউ।
খাবার খোঁজে দু’টি হাঁস
ঘরে বসে ছুটি খাস
খোঁজ কি নিলি কেউ?
জলের উপর সর
সরের উপর ঘর
তুলেছে ছোট্ট ছোট্ট পোকা।
হাঁসের ভয়ে তারা
হবে কি জল ছাড়া?
আয় না দেখি খুকু খোকা।
.
.

পৌষের একটি সকাল  //  বাবুল আচার্যী 

পৌষের একটি সকাল,
চিন্ময়ী কুয়াশার জাল ।
জল বিন্দু ওড়ায় হাল্কা পরিভাষা,
মিন্ময়ী ধরণীর বুকে মিশে যাবে,আশা !
যাওয়ার আগে ঝড়ে, গল গল বেদনা ;
কুয়াশা জল হয়ে পড়ে, কি যে যাতনা ।
বড়ো মমতাময়ী তার শীতল বাঁধন ;
লতা ,গুল্মে ,বৃক্ষে ,ঘাসে করে অঙ্কণ ।
স্বচ্ছ স্ফটিক রেখা, জীবনের হয় দেখা ;
——-সবুজের পারে ।
মনুষ্যের ঘরে , মিল মেলাবার তরে ।
কুহেলি,তুমি হতে পারো অভ্রভেদী জাল_
তবু তোমার ব্যপ্তি ছড়িয়ে আছে এ বিশ্বজুড়ে ।
যেখানে কৈলাস,  সেখানে তোমার বিশ্বাস ;
হিমেল হাওয়ার পরে চলে, নিশ্বাস- প্রশ্বাস ।
তোমার ঐ কুহেলির ঘরে ;
যেতে ইচ্ছে করে বারেবারে ।
আমার ……
মনের রেশম কোনে ছুঁয়ে যায় কনকনে এক সুর;
আসে সে দরবার থেকে ,—-তুমি আছে বহুদূর ।
এ ব্রহ্মাণ্ডের অগুনতি দ্বারের কত কপাট আছে খোলা !
আমি ভালোবাসি কুহেলির খেলা  —শীতের এ ভোরবেলা।

.

 রোদ্দুর চাই রোদ্দুর //সত্যেন্দ্রনাথ পাইন

নির্লিপ্ত অবদান প্রযুক্তিতে
সোলার আলো
বিশাল বিজ্ঞাপন
শিশুর জন্ম হচ্ছে না তাই
পরিচয় মেলে না
বৃষ্টি ভেজা সকাল পৌঁছে যায় না আর
বিশাল ভীড়
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর আবৃত্তি
রোদ্দুর হতে চেয়েছিল
অমল কান্তি।
কোথায় রোদ্দুর !?
রোদ্দুর চাই রোদ্দুর

.

 প্রোমোট  //  সত্যেন্দ্রনাথ পাইন

চুপচাপ আপাতত শ্রেণীচ্যুত মোহাবিস্ফোরণ
টানাটানি পিলপিল বউভাত
ক্যামেরা , সম্প্রচার সাতপাক
পুরুতঠাকুর ইন্টারভিউ
গঙ্গাজল , বুকভরা আশীর্বাদ
চাদ্দিকে গতকালের কোলাহল
চাঁদের গায়ে চাঁদ
বন্ধুত্ব— সাতপাক
আমজনতার ডায়েট পরিবর্তন
 ধুঁকতে ধুঁকতে অগত্যা প্রোমোট
বাস্তবের নারীদেরকে পুরুষের সিঁদুর দান—-
.

.

অজানা পথের যাত্রী  //    রাহুল মাহাতো

বেরিয়েছি যে পথে

জানি কাউকে পাবো না সাথে।

এও জানি একাই যেতে হবে

ভাবতেও চাই না এপথের শেষ কবে!

কতো এলো কতো গেলো

স্মৃতি টুকু শুধু রেখে দিলো।

আরো আসবে আরো যাবে

সত্যিই একাই যেতে হবে।

অনেক স্বপ্ন অনেক আশা

মনের ভিতর করেছে বাসা।

সব তো পূরন হয় নি

তবুও ভেঙে পড়িনি।

পথ এখন বাকি অনেক

তারই মাঝে হিসাব ক্ষনেক।

ভুল করছি কতো

শিখছি আমি যতো।

কখনো ধেয়ে আসছে আনন্দ বা নিরাসার ছায়া

জানি সবই এ জীবনের মায়া।

পথ এখনো অনেক বাকি…

এখানেই থেমে থাকবো নাকি!

না মরার আগে বাঁচার মতো বেঁচে যেতে চাই

জীবন টা কে জীবনের মতো উপভোগ করছি তাই।।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *