যখন কাঁচের টুকরো ভেঙে

শেষ প্রণয়  //  মৌ সাহা

বিদায়ের বেলায় পথরোধ করবোনা,
জানাবোনা কোন অভিযোগ।
কিংবা প্রশ্নের বাণে জর্জরিত করবোনা তোমায়।
শুধু একটাই অনুরোধ যদি দিতেই হয়,
তবে দাও একগোছা লাল কাঁচের চুড়ি।
সযতনে তুলে রেখে দেবো;
যখন কাঁচের টুকরো ভেঙে,
রক্তাক্ত হবে পুরো হাত।
বুঝে নেবো পেয়েছি ভালোবাসার উপহার।
যখন কেউ শুধোবে আমায়,
এটা কিসের ক্ষতচিহ্ন,
তখন বলবো,এ আমার ভালোবাসার,
নানা রঙের ফুলে ভরা প্রতিদান।

.

তবে আমার রইল কি? //   মৌ সাহা

প্রথম দেখার স্মৃতিটা,
আটপৌড়ে শাড়ী পরতে চেয়েছিলাম,
বাড়ির লোক বললো,
তা হবেনা!ছেলে আধুনিক।
সাধারণ ভাবেই পরতে হবে।
তবে আমার রইল কি?
আর্শীবাদের বেশ জমকালো আয়োজন,
ধান-দূর্বা মাথায় দিয়ে বললো সবাই,
স্বামীর ঘরে সুখে থেকো।
তবে আমার রইল কি?
শাঁখা-পলায় হাত সাজলো,
স্বামীর মঙ্গলেরর জন্য।
তবে আমার রইল কি?
সাঁতপাকের বাঁধনে বাঁধা পড়ে,
সিঁথিতে উঠলো সিঁদুর।
সেও তো স্বামীর দীর্ঘায়ূ কামনায়,
তবে আমার রইল কি?
মন্ত্রপাঠের মধ্য দিয়ে,
নিজ গোত্র হলো পরিবর্তন।
তবে আমার রইল কি?
স্বামী সেবায় ব্রতী হয়ে,
নিজের জগৎ গেলো হারিয়ে।
তবে আমার রইল কি?
নতুন অতিথির আগমনে,
চারিদিকে আনন্দ আর উল্লাস।
বললো সবাই স্বামী-সন্তান নিয়ে সুখে থেকো।
তবে আমার রইল কি?
বন্ধনগুলো শক্ত বড়,যায়না তারে খোলা।
কে বলে আমার কিছু নেই।
ওদের নিয়েই জগৎ আমার।
ওদের নিয়ে আমার স্বপ্ন স্বপ্নবোঁনা।

.

বট গাছ হ/বিশ্বনাথ পাল

কত পাখি

কতসুর
কত গান
সুমধুর
কত পাতা
যেন ছাতা
নিজ করে
আছে ধরে
বট গাছ।
বট গাছ ।।
বট মানে-
আনজনে
দেয় খেতে,
শুভ  মনে,
অত্যাচার
দেয় রুখে,
অনাচার
হাসি মুখে – –
ফিরে  যায়।
যারা খায়,
যারা গায়,
যারা থাকে
এ বাসায়
অবিরত
করে ক্ষত
তবু ক্ষমা
করে জমা
অকৃপণ
যার মন
সে আপন
বট গাছ।
বট হতে–
মন হতে
হওঅঙ্কুর
ঠাকুর
খুশি হবেন
 যিনি চান
তার নরেন
 হোক বট বৃক্ষ
যার ছায়া
হবে না নি:স্ব
পাপী তাপী
নারী নরে
নেবে ঠাঁই
সে কোঠরে
যদি কাল
ভাঙে ডাল
নাই খেদ
নাই জেদ
সবাকার
তুশি মন
স্বামীজী
সবার আপন।

.

.

কোন ঘরের চাঁদ বৌ  //  রণেশ রায়

কোন ঘরের চাঁদবৌ গো তুমি
কোন ঘরের চাঁদবৌ !
অন্যের আলোয় জৌলুস তোমার
নিজের আলো কই?
মন্দ ভাবো অন্যকে

মহান  বন নিজে,

রাজবাড়ীতে ধন্না দিয়ে

বনে গেছ কি যে !

কোন ঘরের চাঁদবৌ গো তুমি

কোন ঘরের চাঁদবৌ

ঘরে কত মৌ।

 

তোমার মত ভালো হলে
হয়ে যেত কেউ,
তোমারই মত চাঁদবৌ
ঘরে থাকত মৌ।
কোন ঘরের চাদঁবৌ গো তুমি
কোন ঘরের চাদঁবৌ

ঘরে কত মৌ।

 

তারা কেউ মন্দ নয়

কত উৎপাত সয়

তাই তোমাদের বৈভব

পাঁকের গন্ধে সৌরভ।

কোন ঘরের চাঁদবৌ গো

কোন ঘরের চাঁদবৌ

ঘরে কত মৌ।

তারা যদি মন্দ হয়

তোমাদের সেটাই  ভয়,
হয়ে গেছ  চামচ খাস

রাজবাড়ীতে বাস।

 

রাজনীতিতে বিমুখ তুমি

হয়ে থাক মমি,

নীতি নিয়ে কারবার

ছিদ্র খোঁজ সবার;

কত তোমার আশ

খুঁজে ফের কোথায়  দেবে
বাঁশবনের ওই বাঁশ।

.

বিপন্ন মানবতা // সঞ্জিত মণ্ডল

মানবিক মন মানে কি কখন এই দশা হবে বসুধায়,
শুধু হানাহানি, খুন, রাহাজানি, মানবতা কাঁদে সাহারায়।
ব্যস্ত মানব, ব্যস্ত জীবন, শুধু ছোটাছুটি প্রহরায়
কালিমা লিপ্ত,হয় সমাপ্ত কখন জীবন দেশটায়।
মানে না বারণ, মারে অকারণ, নারী শিশু কত মরে যায়,
হয় বিপন্ন মানব ধর্ম, কত নিষ্পাপ ঝরে যায়।
শোনে নাকো বাণী, করে হানাহানি, বিপন্ন করে দেশটায়,
কী নোবেলজয়ী, শক্তিতে ভারী, মানবতা মুখ ঢাকে হায়।
কে যে কাকে বলে, দম্ভ যে চলে, অস্ত্র দেখিয়ে চমকায়,
কী বাড় বেড়েছে, শক্তি হয়েছে, শোষণ করেছে সবটায়।
কী ওষুধ বলো, চাল চুলো, ধুলো, ধর্মের নামে খাবি খায়,
মারণ রোগেতে অন্ধ হয়েছে মানবতা তাই মরে যায়।
ধার্মিক মন, জনসাধারণ, চারিদিকে শুধু খাবি খায়,
হায় মানবতা, কোথা হে দেবতা, সাধু সজ্জন লাট খায়।
এসো হে জোয়ান, হও আগুয়ান, ধরো হাত যারা কেঁপে যায়,
সব অপমান করো তুমি ম্লান, উজ্জ্বল করো জনতায়।
মানবতা তুমি হারিয়ে যেওনা, এসো জীবনের আঙিনায়,
সবার জীবন মধুময় হোক, ভালোবাসা আনো বসুধায়।
জীবন আবার উজ্জ্বল হোক, হাসি খুশী মন সবটায়,
প্রেম ভালোবাসা, মানবতা মেনে সুখী হোক সবে বসুধায়।।

.

স্মৃতি কেঁদে ওঠে  //  রণেশ রায়

সকালে উঠি প্রতিদিন
খুলে ধরে খাতা
প্রতিটি পাতাই  সাদা
রঙিন নয়, ভাসে না কোন ছবি
সাদা আজও এই দিন।
আকাশ নেমে আসে স্মৃতিতে
সঙ্গে নিয়ে অসংখ্য নক্ষত্র,
নক্ষত্র কোথায় !
এ জীবনের অভিধানে
ব্যাঙ -এর ঘ্যানঘ্যানানি
শেয়ালের হুক্কাহুয়া
নয়ত কুকুরের ঘেউ ঘেউ,
স্মৃতির আকাশে মেঘের গর্জন।
আজ আকাশ পরিস্কার
বৃষ্টি হয়ে গেছে রাতে,
স্মৃতি তুলে আনবে নক্ষত্র
স্মৃতির কানন থেকে,
না ফোটা ফুল ফুটবে সে কাননে।
নতুন কিছু এ জীবনে !
দিনের কোলাহল রাতের নি:স্তব্ধতা
স্পর্শ করবে কে আমাকে
এমন কার দেখা পাব
কিছু একটা ঘটবে
স্মৃতি হয়ে বেঁচে থাকবে
ভাবিকালে এমন দিনে
স্মৃতির আকাশে,
নক্ষত্র হয়ে
দেখা দেবে আমাকে
অথবা সে রামধনু
ওই আকাশে,
শুনতে হবেনা
ব্যাঙ-এর ঘ্যানঘ্যানানি
শেয়ালের হুক্কা হুয়া
কুকুরের ঘেউ ঘেউ।
রোজ-ই রজনী আসে
দিনে ও রাতে
স্মৃতি কেঁদে ওঠে
অন্ধকার গভীর হয়।
প্রতিদিন খবর আসে ধর্ষণের
দিনের অন্ধকারে
বা রাতের আঁধারে
স্মৃতির আকাশে
ধর্ষণ নক্ষত্র হয়ে ওঠে,
নক্ষত্র লজ্জায় খসে পড়ে।
ফিরছি অফিস থেকে
রোজই যেমন ফিরি,
সন্ধ্যার সঙ্গে দেখা পার্কে
কথা দিয়ে কথা রেখেছে
রোজই যেমন রাখ। |
সে এসেছে সময় ধরে
চলে যায় কিছুক্ষণ কাটিয়ে,
আমি দ্বিচারী
রজনী আসেনা কেন ?
স্নায়ু তাড়া করে
মেঘ নেমে আসে
চোখের পাতায়,
বাতাস তুফান তোলে,
সমুদ্রের  গর্জন মাথায়,
কি হোল, এমনত হয় না।
ওদিকে ভিড়, কি একটা ঘটেছে
আমার শ্রীচরণ বুঝেছে,
ডেকে নেয় আমাকে,
গিয়ে দেখি সেখানে
রজনী পড়ে, ধর্ষিতা সে
প্রাণ নেই দেহে
সে নক্ষত্র হয়ে ঢোকে
স্মৃতির অভিধানে।
রাতের স্তব্ধতা
স্পর্শ করে আমায়
স্মৃতি কেঁদে ওঠে,
এর চেয়ে ভাল
ব্যাঙ -এর ঘ্যানঘ্যানানি
শেয়ালের হুক্কা হুয়া
কুকুরের ভেউ ভেউ
ফিরে আসুক গান হোয়ে।
দিন রাত একাকার
রজনী আসে না আমার,
রাতের স্নিগ্ধ বাতাসে
কে আমায় ঘুম পাড়াবে!
স্মৃতির দহন জ্বালায়
ঘুম আমার চলে যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: