নির্জন তরঙ্গময় সমুদ্রের বেলাভূমি পরে

kobita

শ্রীমতী সংবাদ   //   সুব্রত_মজুমদার

ভালো আছো জানি প্রীয় অন্যকারো সাথে, অন্য কারো হাত রেখে হাতে ;
মোদের বিরহ ব্যাথা তোমাকে কাঁদায়, – – হয়তো কোন নিঃসঙ্গ নিশীথে।
আমি কাঁদি নাকো। কেন জানো ? আমার হৃদয়জুড়ে আছো তুমি হে দ্বারকাধীশ ;
তব স্মৃতি হিয়া জুড়ে তাই, – বিরহ বেদন মাঝে সুখের হরিষ।
ভয় করে, তোমার পরশ যদি হৃৎপিণ্ডের বদ্ধ কোষ্ঠ হতে আবেগ আকারে
ঝরে পড়ে নয়নের অশ্রুধারা হয়ে ! বল বন্ধু তখন কি করে
বেঁচে রবে কলঙ্কিনী  ? জানি প্রীয় জানি জানি উত্তরের বৃথাই প্রত্যাশা।
কি করে জানবে তুমি জননীর স্নেহ আর দয়ীতার মৌন ভালোবাসা ?
তুমিও কি সুখে আছ  – – রাজছত্র ঢাকেনাই মোহনচূড়া তব  ? যে অঙ্গুলি
বাজাতো বাঁশরী, – উছলিত যমুনার ধারা, ফিরিত গৃহে গাভীবৎসগুলি;–
সে অঙুলে সুদর্শনচক্র ধরো আজ। যে আঙুল ধরেছিল গিরিগোবর্ধন
রেখেছিল গোপগণে নিশ্চিন্ত আশ্রয়ে, সে আঙুল নেয় আজ প্রাণ।
যে গোপবালক যমুনার স্বাদুজল পান করে নিবারিত তৃষা
সে আজ হেমদণ্ড ধরে সমুদ্রের খরজলে হারিয়েছে দিশা।
বৃষ্ণীরাজ ! ভুলে যাই মাঝে মাঝে কোনো দিন আপন ছিলে তুমি,
তোমার বাঁশির তাণে চঞ্চলিত হৃদয় আমার। প্রেমহীন রূক্ষ মরুভূমি
যেথা নাই সামান্য আর্দ্র্যতা, আছে শুধু ন্যায়-নীতি-কূটনীতির জঘন্য প্রলাপ,
সে হৃদয় নিয়ে কেন বাঁচো ? কেনো জগন্নাথ, এত ঘোর পাপ  ?
যে রথের তুমিই সারথি সে রথের হতে ভীমবাণ ছিন্ন করে নিরীহ বৃষ্ণীরে ?
ভালো থেকো প্রীয়তম, নির্জন তরঙ্গময় সমুদ্রের বেলাভূমি পরে
এ সাক্ষাৎ মুছে যাবে ইতিহাস হতে। দ্বৈপায়ণ ব্যাস কৃপণতা বশে
এই জীর্ণ পাতা ভরাবেনা কালির আঁচরে। হয়তো কোন দেশে
হয়তো কোন কালে আবার তোমার হব। তোমার অপেক্ষায়…
বিদায় প্রিয়…. বিদায়….।

.

S Ray

মনপোকা // শ্যামল কুমার রায়

মনপোকা! তোমার ‘খোলি’ বড্ড ছোট,
গুতগুতি করে মরো।
একদিকে ঔরসদাতা, তো আর এক দিকে ঔরসজাত! 
একদিকে গর্ভধারিণী, তো আর এক দিকে শয্যাসঙ্গিনী!
তুমি ব্যালেন্স করতে পারো?
শুনেছি, কেমিস্ট্রির ডক্টরেটও নাকি এই ব্যালেন্সে ভুল করে!
মধ্যবিত্তের খোলিতে তো এরাই ভিড় করে,
মূল্যবোধের ঠিকে এরাই নিয়েছে যত,
পদস্খলন করে এরা হতে চায় না নত।
কিন্তু, কামকেলির নেশায় বুঁদ হয়ে আছে যারা ,
তোমার হাতেই তো উত্তেজিত হয়ে পড়ে তারা ।
তোমার সামান্য নড়াচড়া জাগিয়ে তোলে শান্ত, সুপ্ত আগ্নেয়গিরি ।
গরম , আঁশটে গন্ধযুক্ত লাভা উদগীরণে –
হয় ক্ষণিকের জন্য শান্ত,
আবার যে কে সেই ।
মেদ , কৃমির জন্য লোভাতুর তুমি –
শিরায় শিরায় জাগিয়ে তোলো শিহরণ ।
মনপোকা! ছোট্ট খোলির কূপমণ্ডূক তুমি
বিষয়ের বিষে দংশন করো।
আমিত্বের অহংকারে মগ্ন তুমি
খোলি থেকে বের হতে না পারো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: