টুকিটাকি // ছোটবেলা – ২৩ // বন্য মাধব

MDD2
আমরা শুনেছিলাম সেকেন স্যার নাকি বেয়াড়া ছাত্রদের আড়ায় ঝুলিয়ে বেদম বেত পেটা করতেন। তারপর হেনস্তার শিকার হয়ে মারধোর ছেড়ে দেন। তবুও মাঝেমধ্যে বেত যে চালাতেন না তা’ নয়, চালাতেন। আর এরকম এক ঘটনার সাক্ষী আমরা। পড়াশোনার নামগন্ধ করতো না হাজারিপাড়ার এমন একটা ছেলেকে একদিন তিনি বেধড়ক কষালেন। কাঁদতে কাঁদতে সে বাড়ি চলে গেল আর কিছুক্ষণ পর তার বাপেরা চড়াও হলো। হেড স্যার সবাইকে বুঝিয়েবাজিয়ে সামলালেন। আমরা তো ভয়ে কাঁটা।
সুন্দরবনের এই অজ পাড়াগাঁয় শিক্ষা বিস্তারে হেডস্যারের ভূমিকা ভোলবার নয়। তিনি অনুপস্থিত ছাত্রদের দেখামাত্র ধরে আনার জন্যে আমাদের পাঠাতেন। কানে খাটো এই মানুষটি চাষাভুষো, মোদো মাতাল, জন মান্দের সবাইকে বোঝাতেন, স্কুলে ছেলে পাঠাতে জোরও খাটাতেন। স্কুলের খড়ের চালের খড়ও পালা করে এর ওর কাছ থেকে যোগাড় করতেন, মানুষের বিপদে পাশে থাকতেন, হাসপাতালে যেতে হবে, কাস্ট সার্টিফিকেট দরকার, টিউবওয়েল খারাপ ইত্যাদি ইত্যাদিতে মাষ্টারের ডাক পড়বেই। মানী লোক স্কুলে এলে ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে পরিচয় করানোর সময় তাঁর উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করতেন। আমরা ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে থাকতাম।
প্রার্থণা শেষ হবার পর নামতা পড়ানো হতো। দু’জন উঁচু ক্লাসের ছাত্র বা ছাত্রী আগে বলতো। আমরা শুনে বলতাম। ছুটির ঘন্টা বাজার আগেও নামতা পড়া হোত। ইংরাজি টেন্স ও ট্র্যানশ্লেষনও যত্ন করে শেখানো হোত। রাস্তাঘাটে সামনে পড়ে গেলে অংক  আর ট্র্যানশ্লেষন ধরতেন, পারো আর না পারো পেটে চিম্টি পড়তোই। স্কুলে পড়া না করে এলেও এমন চিম্টি কাটতেন।আঙুলের ফাঁকে কলম বা পেনসিল ঢুকিয়ে চাপ দিতেন। কিন্তু ছাত্র তৈরিতে তিনি অসাধারণ কাজ করেছেন। 
স্কুলে মাঝেমধ্যে এটা ওটা চুরি হোত। একবার চোর ধরার জন্যে আমি নোতুন কেনা আর্টেক্স নিব পেনটা মাঠে রেখে বসে আছি, কেউ নিচ্ছে না দেখে কিছুক্ষণ পর কলমটা আনতে গিয়ে দেখি নেই। ওটাই বোধহয় আমার প্রথম কিছু হারানো। 
(চলবে)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *