টুকিটাকি // ছোটবেলা – ২৪ // বন্য মাধব

1245
তখন গ্রামে আগুন লাগাটা আকছারই ঘটতো। মূলতঃ এটা অসাবধানেই ঘটে যেত। দু’টো ঘটনা বলি। একটার মূল চরিত্র আমি, যদিও যৌথভাবে।আর একটির এক এবং একমাত্র চরিত্র আমার সানোদা, সুভাষদা।
.
রোজ বিকালে আমরা গোটাচারেক জায়গায় খেলতাম। পেটে ঠাসা থাকতো পষ্টিভাত। হয় বাড়ির পিছনে খাসখামারে গজি খেলা, নাহয় ফুটবল। রাবারের ফুটবল না থাকলে বাতাবিলেবু, সেটা না পেলে কাগজ, ন্যাকড়া, পলিথিন জড়িয়ে বল বানিয়ে খেলা হোতো। চামড়ার বল খেলতো বড়রা, ধান কাটার পর ধানজমিকে মাঠ বানিয়ে। আমরা দর্শক আর বল বয়।
.
ওদের খেলা ভাঙলে আমরাও ঐ মাঠে খেলতাম। আর খেলতাম বড় থানতলায়, যদি না তার সামনের জমিতে সব্জি চাষ না হোতো। আর মাঠ বাদ দিয়ে সব জায়গায়, বনবিবিতলায়ও আমরা কউ, বউ বসানো, এলাডিং বেলাডিং, গুলি খেলতাম।
.
সেদিনও যেমন খেলি তেমনি খেলছিলাম বনবিবিতলায়। এটা ওটা খেলার পর খালপাড়ে ছাইগাদায় সদ্য ফেলা ঘুঁটের আধপোড়া ছাই নিয়ে কে কতক্ষণ লোফালুফি খেলতে পারে তার কম্পিটিশন হচ্ছে। খোরোর সময়।
.
সামনেই ছোট্ ঠাকুর্দার বড় ছেলে, যিনি দুই ঠাকুর্দার ছেলেদের মধ্যে সবার বড়, তাঁর খড়ের চালের গোয়াল। আধপোড়া ঘুঁটেতে তখনও আগুন। লুফছি আর উঃ আঃ করছি। যারা হারছে তাদের দুয়ো দিচ্ছি। খেলাও একসময় শেষ হোলো। হাত পা ধুয়ে গুড বয় হয়ে পড়তে বসতে না বসতেই চিৎকার চেঁচামেচি। গোলঘরে আগুন লেগেছে। 

(চলবে)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *