টুকিটাকি // ছোটবেলা – ২৯ // বন্য মাধব

আমার ঠাকুরমা দিবসবালা, আবছা মনে পড়ে তিনি আমাকে দোল দিচ্ছেন, আর সংসারের কাজে ব্যস্ত মাকে ডাকছেন – ও বউমা, বাছা কাঁদে যে, একটু দুধ দিয়ে যাও গো……
তবে ঠাকুরমার এক ভাইয়ের বিধবা বউ, বাবার মামীমা, গানবুড়ি, তাঁর স্নেহ, আদর পেয়েছি। প্রায় প্রতিদিন তিনি দুপুরবেলা খেয়ে দেয়ে পানের ডিব্বা হাতে নিয়ে মার কাছে গল্পগুজব করতে আসতেন। গল্পগুজব সেরে বিকেলে বাড়ি ফিরতেন। আমাদের স্কুল ছাড়িয়ে বাগমারি পাড়ার মুখে ছিল তাঁদের বাড়ি। এটা ওটা কারণে গিয়েছি ওখানে। কিন্তু ঠাকুমার আদি বাপের বাড়ি ডিঙেভাঙার পাশের গ্রাম বক্সরে  কোনোদিনও যাওয়া হয়নি।
আমাদের সম্পন্ন কৃষক ফ্যামিলি। সুতরাং পৌষ সংক্রান্তিতে পিঠেপুলির উৎসব জমজমাট হোতো। সেবারও দুই ঠাকুরদার যৌথ পরিবারে মহা ধূমধামে সন্ধ্যে থেকেই পিঠে তৈরি হচ্ছে। সাধারণ সব পিঠে প্রথম রাতে হোতো, সময় যত গড়াতো দামি পিঠেগুলোর তৈরির পালা আসতো। মাঝরাত তেলের পিঠে চেপেছে। ছ্যাঁকছোঁক আওয়াজ হোচ্ছে, গরমাগরম পিঠে নোতুন ঝুড়িতে তেল গালাবার জন্যে রাখা হোচ্ছে, হঠাৎ সবার খেয়াল হোলো, আরে ঝুড়ি ভর্তি হোচ্ছে না কেন! তাই তো কী ব্যাপার? ঠাকুমার অভিজ্ঞতা কারণটা বোঝাল। তিনি সবাইকে ভাজা বন্ধ করতে বলে গাছ কোমর বেঁধে নিজেই বড় উনুনে গিয়ে দাঁড়ালেন। 
ভাজছেন আর বলছেন, তোর এত খাওয়ার ইচ্ছে তো আগে বললি না কেন র ্যা? আমরা কি তোকে দিতাম না? বালবাচ্চার খাবার চুরি করে খাচ্ছিস আবাগির বেটি……..
রান্নাঘরের পিছনে ছিল বাঁশ বাগান, সেখান থেকে খোনা গলায় আওয়াজ এল, আঁমার যেঁ খুঁব খেঁতি ইঁচ্ছে হোঁলো গিঁন্নিমা…….
তাই? তোর খুব খিদে? এই নে খা মাগি, খা, বলেই ডাবরি ভোরে ফুটন্ত তেল ছুঁড়ে দিলেন। আর যায় কোথায়? জানালার ওপারে তখন চন্দ্রবিন্দুর ছড়াছড়ি……. ওঁরে বাঁবারে গেঁছি রেঁ বাঁবা……..
ঠাকুমা তৎক্ষণাৎ জানলা বন্ধ করে বউমাদের বললেন, একঝোড়া নানা রকমের পিঠে দিতে। নিজে মান্দেরদের সাথে নিয়ে সেই পিঠে বাঁশ বাগানে রেখে এলেন! তারপর প্রতি বামণিতে তাঁর নির্দেশে একঝোড়া করে পিঠে বাঁশবাগানে রেখে আসা হোতো।

………..  চলবে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *