আধুনিক খামে পুরোনো চিঠি

1254

প্রথম সাক্ষাত  //  প্রিয়নীল পাল

বসন্ততো অনেক দিন আগেই গেছে 

এখন তো শীত, 

তবে তোমায় দেখে বসন্ত বিলাপ 

আর মন গুন গুন করে রবীন্দ্র গীত। 

আমার আধুনিক হয়ে কাজ নেই 

আমি খুশি পুরোনো প্রেমে 

তোমায় দেখে প্রথম মনে এসেছে

তুমিই হয়তো রুবি

 আর ডি বর্মন এর গানে। 

তোমার বাংলার মাঝে একটু একটু ইংরেজি 

বিশ্বাস করো এই বাঙালি মন কে 

একটুও বিরক্ত করে নি। 

বরং মন বলেছে তুমি 

আধুনিক খামে পুরোনো চিঠি। 

একটু একটু হাসি তোমার 

মনে পড়ে সেই প্রেম আমার। 

বোঝে না সে বোঝে না, 

আমি গান গাইতে চাই না 

আমি চায় তো শুধু, 

 তোমার নামে একটা লিখি কবিতা।

.

.

.

ভালবাসাই শেষশব্দ  //  মাধব মন্ডল

কি জানি কেমন করে এত হালকা পলকা এ শরীর, পালকের মত উল্টি পাল্টি ভেসে ভেসে, কুমারী মুরগীর পাস কাটিয়ে কাটিয়ে, মিষ্টি জামফলকে টা টা দিয়ে উড়তে উড়তে দুব্বো বনে।

মেঘ কুমারী তুমি হাস আর কাঁদ, আমি নদীকে ছোঁবনা ছোঁবনা করেই ডিঙিয়ে যাব, এমনকি ঐ পাহাড়টাকেও, দুব্বো ঘাসে দু’দন্ড জিরিয়ে আবার পথচলা….

বটের ঝুরিতে পিঁপড়ের ছানাকে কাতুকুতু দিই, সদ্য ছেঁচা পুকুরের পাঁক থেকে উঁকি মারা পাঁকালের চোখে হাওয়া মারি, রাস্তা শিরীষের ডালে আটকে পড়া ঘুড়িটাকেও ফুঁ মারি।

জানো কাল রাতে আমার শরীর যখন পালক হয়নি, পাঁচ লক্ষ পাউন্ড উড়ে এল, হাসব না কাঁদব ভাবতে ভাবতে আমার এ দশা, ভিক মেগে দোরে দোরে পাগলিরে তুই কাকে খাওয়াস,তোরই জান ঘর পাতে ও পাড়ায়, জোয়ান ছাওয়াল দু’চাকায় তুড়ি মারে দুনিয়াকে,পাগলিরে….

.

.

.

  তাদের আলো দেখাও  // সত্যেন্দ্রনাথ পাইন

স্থূল দেহের অভিমান ঝেড়ে ফেলে দাও। সূক্ষ্ম দেহে নিজেকে চিনতে শেখ।কামপ্রলুব্ধদের দিকে তাকিয়ো না। দৃষ্টিকে সীমাহীন কর।অপরের গুণগুলো বিশ্লেষণ কর।

  কোনো পাপ তার বাপকেও ছাড়ে না। কুসংস্কারাচ্ছন্ন

মানুষের সঙ্গ ত্যাগ কর।

  দেহ হতে আত্মার নিষ্ক্রমন হলেই সব শেষ। তার জন্য মায়ায় বদ্ধ হয়ো না।

   স্ত্রীকে ভোগের পাত্র ভেবো না। তিনি জায়া আবার তিনিই সন্তানের মাতা। স্নেহ কর্তব্য আর ভক্তি তার থেকে আহরণ কর।

  অযথা কাউকে কটু বাক্য শুনিয়ো না। শক্তি অর্জন কর।আর সেই শক্তি দ্বারা নিরীহ, নিপীড়িত, শোষিত, অত্যাচারিতের, লাঞ্ছিত হতভাগ্যদের রক্ষা কর। ঈশ্বর তোমার সহায় হবেন।

    অনেক কাজ বাকি আছে তোমার জন্যে।অক্ষমতায় দিন কাটিয়ো না।ভাল মন্দ, পাপ পূণ্য সবই এ জনমে ভোগ করতে হবে।অতএব নিষ্কাম ভালো কর্ম কর। তুমি শান্তি পাবে।

    কুসংস্কারাচ্ছন্ন মানুষ অন্ধ। তাদের আলো দেখাও, পথ দেখাও।

.

.

.

জোছনা  //  মিজানুর রহমান মিজান

মায়াভরা তোর মুখখানা
আলো ছড়ায় চাঁদবদনী জোছনা।।
প্রেম প্রীতি অনুরাগী
ভালবাসা দিলে ভাগি
অল্প স্বার্থে দিলে যন্ত্রণা।।
বাজালে প্রেমের মোহন বাঁশি
গলায় পরালে আদরের রশি
কলংকি করে লাগালে ফাঁসি, এ তোর ভাবনা।।
আমার মন মন্দিরে
রাখছি শুধু যতন করে
পথ নেই পালাবার করলে যখন ছলনা।।
ভাবনাতে মোর জীবন সারা
পথহারা পথিক দিশাহারা
কাঙ্গাল জেনে পুরাবে আশা এতো বাসনা ।।
.
.
.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *