পরিস্থিতি (দ্বিতীয় পর্ব) // লেখা :- মৃণাল চক্রবর্তী

আমাদের বন্ধুত্বটা হয়েছিলো ঠিকই কিন্তু আমি যে আবীর কে ভালোবাসি একথা এখনও আমার বলা হয়ে ওঠেনি, ভয় হতো যদি এটা শোনার পর থেকে আবীর আর আমার সাথে কথা না বলে।

আমি একটা জব পেলাম বেসরকারি ব্যাংকে

ব্যাংক বন্ধ হতো প্রায় ৫:০০/৬:০০ টা

আমি রোজ বাড়ি আসার সময়ে দাঁড়িয়ে থাকতাম

ঠিক আবীর যে দোকানে কাজ করে তার উল্টোদিকে, আবীর ও এই সময়ে কাজ সেরে বেরোতো।

আমরা রোজ এক সাথে ফুচকা খেতাম আর কিছুক্ষণ বসে গল্প করতাম সূর্য্য নগর মাঠে বসে

জায়গাটা বেশ জমজমাট বসে অনেকক্ষণ সময় নিয়ে গল্প করতে বেশ ভালোই লাগতো।

এভাবে বেশ ভালোই চলে যাচ্ছিলো দিন গুলো,

একদিন ব্যাংক থেকে বাড়ি ফেরার পথে রোজকার মত সেদিনও অপেক্ষা করছিলাম আবীরের আসার কিন্তু অনেকক্ষণ অপেক্ষা করার পর যখন আবীর এলো না তখন দোকানে গিয়ে বাকিদের জিজ্ঞেস করার পর জানলাম আবীর আজ দোকান আসেনি।

আমি বাড়ি গিয়ে আবীর কে ফোন করলাম কিন্তু আবীরের নাম্বার উপলব্ধ নয় বলছিল বারে বারে,

তার পরের দিনও আমি আবীর এর জন্য অপেক্ষা করি কিন্তু সেদিনও আবীর এলো না, আমি খুব চিন্তিত হয়ে পরি এবং তখনই আমি রিকশা ভাড়া করে আবীর এর রুমে যায় গিয়ে দেখি আবীর শুয়ে আছে জ্বরে গা পুড়ে যাচ্ছে, আমি আমার ওড়নার থেকে এক টুকরো অংশ ছিড়ে জলে ভিজিয়ে আবীর কে জলপট্টি দি, তারপর আবীর কে জিজ্ঞেস করি,

কি ভাবে হল এইসব আবীর..?

আবীর পাশের টেবিলের দিকে তাকিয়ে

আমি পাশে টেবিলের দিকে তাকিয়ে দেখি একটা প্রেসক্রিপশন রাখা…

সেটা হাতে তুলে নিয়ে দেখে আমি আর নিজেকে সামলে রাখতে পারছিলাম না আবীর এর বুকের ওপর মাথা রেখে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে থাকি,

সেখানে আবীর এর ব্রেন ক্যান্সারের রিপোর্ট ছিল।

কি করব ঠিক বুঝতে পারছিলাম না, আবীর কে বললাম চলো আমার সাথে এখুনি ডক্টরের কাছে কিন্তু আবীর বললো কোনো লাভ নেয় মায়া ডক্টর বলেছে এটা আমার লাস্ট স্টেজ আমি আর বাঁচব না।

আমি বললাম আমি তোমায় ভালোবাসি আবীর আমি পারব না থাকতে,

আবীর তখন বলে আমিও তোমাকে ভালোবাসি কিন্তু বলিনি কারণ আমি জানতাম আমার এরকম একটা রোগ আছে যা আমি টাকার অভেবে করাতে পারিনি।

এভাবে আবীর আর মাত্র ২১ দিন বেঁচে ছিল তার পরেই একদিন ভোরে সব শেষ হয়ে যায়।

হ্যাঁ এর পর কেটে যায় অনেক গুলো বছর কিন্তু আমি এখনো বিয়ে করিনি আর কাউকে ভালো বাসতেও পারিনি, বাড়িতেও বলে দিয়েছিলাম আমি কোনোদিন বিয়ে করব না। এখনও খুব কষ্ট হয়

মা বাবাকে হারিয়ে এত কষ্ট করার পর সেও চলে গেলো এই পৃথিবী ছেড়ে।

গল্পটা পড়ার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ

ভালো লাগলে অবশ্যই লাইক দিন ও শেয়ার করুন লেখাটি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *