Tuesday, March 26, 2019

তৈমুর খান এর দুটি কবিতা

453



নিজেরই বিশেষ্যপদ


_________________________



কয়েকটি ছোবল শুধু , চারিপাশে ফণা দুলে ওঠে
ক্ষতগুলি ঢেকে রাখি
আরক্তিম সন্ধ্যায় তবু রক্ত ঝরে

নিজেরই বিশেষ্যপদ —  সামাজিক, ব্যাকরণ সম্মত
অথবা গৃহপালিত —
কেন সে আকাশে ওড়ে , অথবা কাঁপে বোধিকল্প জ্বরে ?

বিহ্বল পড়শির কাছে স্বপ্ন চায়
স্বপ্নে এক বাদামি শরীর
শরীরে স্রোতের ঢেউ
আর আরশিজলে নার্সিসিজম্  !

উপরন্তু প্রাচীন চাঁদ সহজিয়া জ্যোৎস্না বিলি করে
বোঝে না প্রবৃত্তিসাধ কেমন মৎস্য হয়ে
ডুব মারে জলে

কয়েকটি ছোবল শুধু ক্ষত করে রাখে
সমস্ত জীবনইচ্ছাকে...



 


নিজেই নিজের আজ্ঞাবহ


_____________________


 

খড়ের শব্দ ।  শীতের রাত । জ্যোৎস্না নেই  ।


গান ঝরছে ।  অন্ধকারের তীব্র গান   ।


ধারণার রাস্তা আগলে কুকুরগুলি দৌড়ে গেল   ।


হল্লা নামল পথের মোড়ে   ।


 

বিরক্তি আজ  । বন্ধ জানালা   ।


দুয়ারে সব মৃতমাছ ।  পর্দা ঠেলছে ।


আসছ কেন ? কে ডেকেছে  ?


ভূমণ্ডলের নষ্ট প্রলাপ দিব্যি হাসছে   ।


রাঙা চোখের কোনো ইশারা দেখছি না আর   ।


 

তালপাতারা বাঁশি বাজাচ্ছে   । গাছে গাছে ।


ঠাণ্ডা বাতাস হাতুড়ির মতো উঠছে নামছে  ।


শুনশান ঘুম ওই পালাল  । কুকুররগড় চলছে বেশ   ।


 

নিজেই নিজের আজ্ঞাবহ  । জানালা খুলি ।


আর কথার দোকান   । দোকানে এসেছে চেতনাকুমারী   ।


বেশ রূপসী   । ছলকাচ্ছে মৃদু গন্ধ  ।


কাতুকুতু  । হিহি হিহি   । লাফিয়ে নামছে শব্দগুলি  ।


এসবই খুব প্রাইভেসি   ।


 

ওই রক্ত ঝরল   । আবার সঙ্গম  । পরপর ।


পর্দা নামাও   দেখব না আর ।  অনুভূতির দোকান


বন্ধ   । চোখ ফিরুক চোখের কাছে  । বেশ অন্ধকার ।


 

কুকুরগুলি দৌড়ে গেল.....